হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, বোলপুর, ১৯ জুন ২০২৬ (শুক্রবার): পবিত্র মহররম মাসের প্রথম শুক্রবার উপলক্ষে বোলপুর সংলগ্ন মুলুক গ্রামের ইমামবাড়া আলী আসগর (আ.), খানকাহ এ কাদেরিয়া, কারবালা নগর-এ এক বিশেষ শোকমজলিসের আয়োজন করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় এখানেও আন্তর্জাতিক আলী আসগর দিবস যথাযথ মর্যাদা, ভক্তি ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হলো।
শোকমজলিসের পরিবেশনা ও বক্তব্য:
উক্ত মজলিসে মুখ্য বক্তব্য রাখেন মাওলানা রাশাদাত আলী আল কাদেরী। তিনি তাঁর বক্তৃতায় তুলে ধরেন কারবালার করুণ ইতিহাসের সেই হৃদয়বিদারক অধ্যায়-যেখানে মহান ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মাত্র ৬ মাস বয়সী শিশু সন্তান হজরত আলী আসগর (আ.)-এর শাহাদাত কারবালার শোকগাথাকে চির অমর করে রেখেছে। তিনি বলেন, এই দিনটি শিশুদের সমাবেশ ও স্মরণসভার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়, যাতে আগামী প্রজন্ম সত্য ও ন্যায়ের পথে আত্মত্যাগের এই মহিমান্বিত শিক্ষা লাভ করতে পারে।
শিশুদের প্রতি করুণার বীজ বপন:
অনুষ্ঠানের এক অনন্য পর্বে উপস্থিত শিশুদের মাঝে তাদের পছন্দের খাবার ‘আলী আসগর (আ.)’-এর নামে বিতরণ করা হয়। এই আয়োজনটি শিশুদের কোমল মনে মহব্বত, মমতা ও করুণার বীজ বপন করার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। স্থানীয় অসংখ্য শিশু ও তাঁদের পরিবার এই মজলিসে অংশগ্রহণ করেন। মা-বাবারা সন্তানসহ উপস্থিত থেকে হজরত আলী আসগর (আ.)-এর রহমত ও বরকত কামনা করেন।
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আদর্শ ও ইয়াজিদের বিরুদ্ধে অবস্থান:
মাওলানা রাশাদাত আলী আল কাদেরী তাঁর বক্তব্যে ইসলামের মৌলিক নীতি ‘আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার’ (সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ)-এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইমাম হুসাইন (আ.) এই মহান আদর্শ শিক্ষা দিতেই আগমন করেছিলেন এবং মজলুমদের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন, কারণ ইয়াজিদ সঠিক ইসলামকে সম্পূর্ণরূপে বিকৃত ও বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছিল।
বাহিনীর সংখ্যার ঐতিহাসিক তুলনা:
তিনি আরও বলেন, কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর পরিবার ও সাথীদের নিয়ে মাত্র ৭২ জন ছিলেন। অন্যদিকে, ইয়াজিদের বিশাল বাহিনী ছিল ৫০ হাজারেরও অধিক; কোনো কোনো বর্ণনায় সংখ্যাটি এক লক্ষ এবং অন্য রেওয়ায়েতে দুই লক্ষ পর্যন্ত উল্লেখ রয়েছে। এই অসামঞ্জস্যপূর্ণ সংখ্যাবলের মধ্যেও ইমাম হুসাইন (আ.) সত্যের পথে অবিচল ছিলেন।
তিন দিনের অনাহার ও শিশুদের আর্তনাদ:
তিনি হৃদয় বিদারক ভাষায় স্মরণ করেন, ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর পরিবার কারবালার ময়দানে টানা তিনদিন অনাহারে ছিলেন। ক্ষুধায়-পিপাসায় ছোট ছোট শিশুরা ‘আল-আতাশ! আল-আতাশ!’ (পানি! পানি!) বলে চিৎকার করছিল; কিন্তু ইয়াজিদের নৃশংস বাহিনী তাদের এক ফোটা পানিও দেয়নি, বরং নিষ্পাপ শিশুদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করেছিল।
পীর এ তরিকতের তত্ত্বাবধান ও পরিচালনা:
সমগ্র শোকমজলিশটি পরিচালিত হয় পীর এ তরিকত হজরত সৈয়দ রশাদাত আলী আল কাদরী-এর তত্ত্বাবধানে। তাঁর দিকনির্দেশনায় মজলিসটি ছিল আধ্যাত্মিক আবেগ, ধর্মীয় মর্যাদা ও বাস্তব শিক্ষায় সমুজ্জ্বল।
শেষকথা: উল্লেখ্য, পবিত্র মহররমের প্রথম শুক্রবার বিশ্বব্যাপী ‘আলী আসগর দিবস’ হিসেবে সুপরিচিত। কারবালার সেই ঐতিহাসিক শোক ও আত্মত্যাগের মহাকাব্যকে আগামী প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে এই দিবসটি এক অনন্য আধ্যাত্মিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
আপনার কমেন্ট